শব্দ মিলানোর খেলা (সপ্তম প্রহর)

ফুটপাত জুড়ে বসানো দোকানে দোকানে

আগুনে জ্বলে পুড়তে থাকা কালো তেল;

অথবা আকাশের ফানুশ

আগের দিনের মতই; নতুন-পুরনো

গ্রাউন্ডহগ ডে’তে আটকা পরা মানুষ।

 

সেইসব সন্ধ্যারাতে ভাজাপোড়ার ঘ্রাণে

দূরদূরান্ত থেকে আসা বিদ্যুৎ প্রেতেরা

ফাকাগলি, ময়দান, তিন-চার রাস্তার

মোড়ে, কুপির তারে আগুন ধরায়

তাদের কিছু চেপে বসে আমার ঘাড়।

 

নতুন উজ্জ্বল সাদা বাতির তলায় ছায়া

পেছনে সামনে দুলতে থাকে

আবার সামনে-পেছনে, একসাথে কখনো

চারপাশ ছড়ানো বর্গের কর্ণের মত

আর আমার কর্ণ জাগ্রত নতুন কোন

গল্পের অপেক্ষায়।

 

ভ্যানগাড়ির উপর, স্তুপে, পুরনো, ছেঁড়া

বইয়ের শেষের পাতায় লেখা ছিলো

“শব্দ মিলানোর খেলা”; ফুলার রোডের বাঁকে।

তবুও মাথা থেকে ভিড় করা, কথাদের সারি

পাশের চার রাস্তার গাড়িদের মত

আটকে থাকে।

মে ২৫, ২০১৭

সন্ধ্যাবেলায় মাংসের দোকানের বাইরে
গলায় দড়ি বেঁধে আয়েশ করে বসা
সাদা ষাঁড়টার চোখের দিকে তাকিয়ে
আরেকটা সপ্তাহের মৃত্যু দেখতে পাই

শব্দ মিলানোর খেলা (দ্বিতীয় প্রহর)

মধ্য রাত।
তার সাতসকাল কল্পনায়
ভাসতে থাকা, সেই অল্প কিছু
মেঘের সাথে, খেই হারানো ঘুমের ডিঙায়
তোমার হাতে তুলোর মত লোম জড়ানো –
গোনার ভুলে ভেড়ার শত
আজকে যদি না ছুঁয়ে যায়
বেড়া ডিঙিয়ে পাশের বাসায়;
শুন্যে এসে থামতে হলে।

কুকুরগুলো আরো ক’ক্ষন ঘুমের গানে
বৃষ্টি নামাক, আলো যখন নামার কথা
না দিয়ে ডাক, পাখির বাসায় কাঁথামুড়ি
নদীর ধনুক-তীর না ভাসায় সূর্য যেন।
অনেক কথার ভিড়
জমানো মাথার ভেতর।
খুব সে ছিলো ধীর অপেক্ষায়
লাঠির মাথায় ভেড়ার শাবক-ঘুম তাড়িয়ে
রাত বাড়িয়ে, রাত বাড়িয়ে।